কোন ধর্ম প্রাচীন

কোন ধর্ম প্রাচীন

Size
Price:

Read more »

প্রশ্ন:কোন ধর্ম প্রাচীন?তোমার যুক্তিতে প্রমাণ কর।



সূচনা: কোন ধর্মটি সবচেয়ে প্রাচীন, এই বিষয়ে বিভিন্ন ধর্মে বিশেষ করে হিন্দুদের মধ্যে ভুল ধারনা রয়েছে। তারা ভাবে হিন্দু ধর্ম সবথেকে প্রাচীন ধর্ম। তারা বলে যেহেতু হিন্দু ধর্ম ইসলাম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি ধর্মের আগে এসেছে তাই হিন্দু ধর্মই একমাত্র সত্য ধর্ম এবং বাকি সব ধর্ম হিন্দু ধর্ম হতে সৃষ্টি ইত্যাদি ইত্যাদি। এজন্য এই বিষয়টিরই একটি কেস স্টাডি করা হবে।
প্রথমেই বলি, কোন ধর্মকে অবস্থান কালের ভিত্তিতে সত্য ধরতে হয় তবে সেই ধর্মকে শুধু প্রাচীন হলে হবে না বরং সবথেকে প্রাচীন হতে হবে, অর্থাৎ সেটি প্রথম মানবের সময় হতে সৃষ্ট হতে হবে। যদি তা না হয় তবে সে ধর্ম ভুল। কারন ঈশ্বর যদি ধর্ম সৃষ্টি করেন তবে তা সব মানুষের জন্য করবেন, কোন একদলকে বাদ রেখে পরের প্রজন্মের জন্য করবেন নাযদি কোন ধর্মকে সত্য হতে হয় তবে সেটাকে প্রথম প্রজন্মের মানুষের হাত ধরেই চলে আসতে হবে

হিন্দু ধর্ম প্রাচীনতম কিনা?

হিন্দুরা মনে করে তাদের ধর্ম প্রাচীনতম।পৃথিবীতে প্রথম ধর্ম এসেছে হিন্দু ধর্মতাদের এ কথা সঠিক নয়।উইকপিডিয়াতে হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে প্রাচীন কিতাব ঋগবেদ এর বয়স দেয়া আছে ১২০০-১৫০০ খ্রি:তাই তারা বলে তাদের ধর্ম প্রাচীনতম।হিন্দু যে প্রাচীনতম ধর্ম নয় তার কারণ হলো-
.হিন্দু ধর্মের বয়স সাড়ে তিন হাজার বছরের বেশী না। অপরদিকে মানব সভ্যতার বয়স দেড় লাখ বা সাম্প্রতিক গবেষনায় ১ লক্ষ ৯৬ হাজার বছর।

এখন হিন্দু ধর্মই যদি সত্য হয় তবে ভগবান কেন মানুষ সৃষ্টির এতগুলো বছর পর অর্থাৎ প্রায় দেড় লাখ বছরের বেশি পরে ধর্ম প্রেরন করল? তাহলে এই ধর্ম কি সত্য হতে পারে ?
.অপরদিকে তথ্যানুসারে যে হিন্দুরা দাবী করে হিন্দু ধর্ম সবচেয়ে প্রাচীন, এটাও কিন্তু সঠিক নয়, কারন Catalhoyuk দের ধর্ম আজ থেকেও প্রায় ৯ হাজার বছর পুর্বে ছিল, অর্থাৎ হিন্দু ধর্ম থেকেও প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বছর প্রাচীন তাদের ধর্ম, সুমেরিয়ান দের ধর্মও আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বছর আগের, অর্থাৎ হিন্দু ধর্ম থেকেও এক দেড় হাজার বছর পুর্বে এই ধর্ম এসেছে।

এখন হিন্দুরা কি তবে বলবে ক্যাটালহোক বা সুমেরিয়ানদের ধর্মই সত্য ধর্ম, আর তাদেরটা মিথ্যা ?
.তবে হিন্দুদের মধ্যে বৈদিকরা আবার এসব তথ্যের তোয়াক্কা না করে দাবী করে যে বেদ এসেছে সৃষ্টির শুরু থেকে। অর্থাৎ প্রথম মানুষ থেকেই বেদ এর জন্ম।
এই দাবীগুলো খন্ডানো করা যায় , যেমন, যদি বেদ মানব জাতির একদম প্রথম থেকে হয়ে থাকে, তবে এর ভাষা সংস্কৃতকে হতে হবে বিশ্বের সবথেকে প্রাচীন ভাষা। কিন্তু মজার বিষয় প্রাচীনতম ত দূরে থাক, বিশ্বের সবথেকে লিখিত পাওয়া প্রাচীন ১৩ ভাষার মধ্যেও সংস্কৃত এর স্থান নেইএখন দেখি আসুন দেখি যজুর্বেদ কি বলে:
যজুর্বেদ ১৩/৩৭,“হে জ্ঞানী মানুষ, প্রাচীন জ্ঞানীদের হতে শিক্ষা নাও, যারা অতিথিপরায়ণ, রথারোহীর ন্যায় যারা নিজ অশ্বদের সংযুক্ত করে, যারা দক্ষদের দ্বারা সুনিয়ন্ত্রিত, এবং যারা নিজেদের ন্যায়ের আসনে বসিয়েছে।যি
এখানে বেদ প্রাচীন জ্ঞানীদের হতে শিক্ষা নিতে বলেছে, অর্থাৎ বেদ যখন লেখা হয়েছে সেই সময় থেকেও প্রাচীন মানব সভ্যতা ছিল।  এরপর দেখি যারা ছিল রথারোহি,ঘোড়সওয়ার।
আমরা জানি, রথারোহন, তথা চাকার আবিষ্কার হয়েছে মানব সভ্যতার বহু পরে, অর্থাৎ বেদ কোনভাবেই মানব সভ্যতার শুরুতে নাযিল হয়নি। আর বেদ সেই সময়কে প্রাচীন বলেছে(সেই সময়ের জ্ঞানীদের প্রাচীন আখ্যা দিয়ে) অর্থাৎ বেদ মানব সভ্যতার বহু বহু পরে রচিত, খোদ বেদ থেকেই তা প্রমানিত।
.এবার আসি আরো কিছু প্রাসংগিক তথ্যে, আপনারা কি জানেন অনেকের মতে হিন্দুদের বেদ নামক বইটি আসলে পারসীয়ানদের ধর্মগ্রন্থ জেন্দ আবেস্তা হতে কপি করে লেখা ? আর্যদের আদি নিবাদ হচ্ছে পারস্য, পারস্য হতে মাইগ্রেট করে এরা আফগানিস্তানের খাইবার গিরিপথ হতে ভারতবর্ষে প্রবেশ করে। ভারতবর্ষে প্রবেশের পর তারা পারস্যের ধর্মগ্রন্থ জেন্দ আবেস্তার অনুকরনে বেদ রচনা করে এরা ধর্মপ্রচার শুরু করে।
উইকিপিডিয়া অনুসারে জেন্দ আবেস্তা ও ঋগবেদ এর রচনাকাল প্রায় সমসাময়িক বলা হলেও বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের মতে আবেস্তা গ্রন্থ ঋগবেদ হতে প্রাচীন আর আবেস্তা ও ঋগেবেদ পাশাপাশী পর্যালোনা করলে যে কেউ বুঝতে পারবে যে একটা আরেকটারকপি আবেস্তা হতে বহু শব্দ হ স এর ইত্যাদি পরিবর্তিত হয়ে ঋগবেদে ব্যাবহৃত হয়েছে,যেমন:বেদের চার বেদ বর্নপ্রথা
যাই হোক, পরিশেষে বলা যায়, বেদকে অপৌরুষ, আদি ইত্যাদি বলে হিন্দুরা যেসব গর্ব করে তা ভিত্তিহীন এবং হিন্দু ধর্ম কোনভাবেই মাত্র সাড়ে ৩ হাজার বছরের প্রাচীন নয়

ইসলাম ধর্ম:

এখন প্রশ্ন জাগতে পারে তাহলে সবথেকে প্রাচীণ ধর্ম কোনটি। এর উত্তর জানতে হলে আমাদের বুঝতে হবে ধর্ম কি। ধর্ম হচ্ছে ঈশ্বরের একত্ববাদের উপর ভিত্তি করে যা গড়ে ওঠে। পৌত্তলিকতাও ধর্ম, কিন্তু তা সঠিক ধর্ম হতে পারে না। কারন কোন ধর্মগ্রন্থই পৌত্তলিকতাবাদকে অনুমোদন করে না।। আর ইসলামের মুল বিষয় হচ্ছে তাওহীদবাদ। অর্থাৎ সৃষ্টার একত্ববাদ। আর যুগ যুগ ধরে যত আসমানী কিতাব রয়েছে সবখানেই রয়েছে সৃষ্টার একত্ববাদ। হিন্দুদের বেদেও রয়েছে সৃষ্টার একত্ববাদ। বাইবেল, ওল্ড টেষ্টামেন্ট, আবেস্তা সবখানেই একি একত্ববাদ। অর্থাৎ ইসলাম মোটেও কোন নতুন ধর্ম নয়।আল্লাহ যুগে যুগে বহু নবী রাসুল পাঠিয়েছেন, কিতাব পাঠিয়েছেন, কোরান হচ্ছে সর্বশেষ কিতাব। নাম না জানা সেসব কিতাব এর বিকৃত বা অবশিষ্টাংশই যে বর্তমানের বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই। কোরান দ্বারাই ইসলামের শুরু নয় বরং কোরান ইসলামের সর্বশেষ অধ্যাদেশ। প্রথম মানব ও নবী হযরত আদম আঃ এর হাত ধরে ইসলাম শুরু, ও কিতাব কোরান ও মুহাম্মদ সঃ এর দ্বারাই এর অধ্যাদেশ শেষ। তাই ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা সৃষ্টির আদি হতে আছে এবং অন্ত পর্যন্ত থাকবে। আর ইসলামের আদি হতে থাকার প্রমান আমরা দেখতে পাই, কোরান পুর্বক কল কিতাবেই, যেগুলো হতে পারে পুর্বোক্ত আসমানী কিতাব বা তার অংশবিশেষ বা বিকৃত অংশ।
যেমন পনেরশ বছর পুর্বের বাইবেল উদ্ধার হয়েছে সম্প্রতি যেখানে, যীশু আঃ কে নাবী ও নাবী মুহাম্মদ()এর আগমনের কথা বলা আছে,দেওয়া আছে আল্লাহর পরিচয় ও ইসলামের তাওহীদবাদ,
বেদা আল্লাহ,পারসীয়ান ধর্ম যেটি ঋগবেদ হতেও প্রাচীণ, তাতেও আছে ইসলামের মুল ভিত্তি ও নবিজির আগমনের বর্ননা
তাই আমরা দেখতে পাচ্ছি ইসলামের মুল ভিত্তি যুগে যুগে অপরিবর্তিত ছিল।যুগের প্রাক্কালে পুর্বের আসমানী কিতাব অনেকগুলোই হারিয়ে গেছে, কিছু বিকৃতি হয়েছে, কারন কোরান নাযিলের পর সেগুলোর আর দরকার ছিল না। তবে ইসলামের যাত্রা শুরু হয় প্রথম মানুষ আদম আঃ থেকে এবং এটা হতে থাকবে পৃথিবির অন্ত পর্যন্ত। তাই ইসলামই একমাত্র প্রাচীন, সত্য ও সৃষ্টার

0 Reviews

Contact form

নাম

ইমেল *

বার্তা *